iklan banner

মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিলের আজ কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জানাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নারীনেত্রী শিরিন বানু মিতিল বুধবার রাত দেড়টায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহেৃরাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক ছেলে, ২ মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং পুরুষের পোশাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ বীরমুক্তিযোদ্ধা বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার ইন্দিরা রোডে তার নিজস্ব বাসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত দেড়টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ মহিয়সী নারীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। এরপর তার মরদেহ কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আনা হবে। বাদ আছর এখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। শিরিন বানু মিতিল ১৯৫০ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনায় খোন্দকার শাহজাহান মোহাম্মদ ও মা সেলিনা বানু দম্পতির ঘরে জন্ম নেন। মা পাবনা জেলার ন্যাপ সভানেত্রী এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি ছিলেন, বাবা ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়ায় ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি সচেতন স্কুলজীবনেই ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন শিরিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ১৯৭০-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী এবং কিছু সময়ের জন্য পাবনা জেলা মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদিকা ছিলেন। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ শুরু হলে ২৭ মার্চ পাবনা পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। সেই যুদ্ধে তিনি বীরকন্যা প্রীতিলতাকে অনুসরণ করে পুরুষ বেশে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় পড়তে যান। সেখানকার পিপলস ফেন্ডশিপ ইউনিভারসিটি অব রাশিয়ায় পড়া শেষে ১৯৮০ সালে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে তিনি নিজেকে সমাজ কল্যাণে

মুক্তিযোদ্ধা ও নারীনেত্রী শিরিন বানু মিতিলের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মো: ওমর ফারুক, ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: জাকির হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল, বিএমএ কুমিল্লার সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পিপি গোলাম ফারুক, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর, আদর্শ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহজাহান সাজু, খেলাঘর কুমিল্লা সংগঠক নৃপেন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, আবদুল মমিন, নাট্যশিল্পী বিষ্ণুপদ সিনহা, সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা কালচারাল কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর, সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি আবুল কাশেম, লেখক ও সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মাহবুব, মধুমিতা কচি-কাঁচার মেলার পরিচালক অনিমা মজুমদার প্রমুখ।
নিয়োজিত করেন।
Previous
Next Post »