ক্রীড়া প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খুব কঠিন তা সবারই জানা। বর্তমান যুগে পৃথিবীর যে প্রান্তে খেলা হোক না কেন সেই খবর পৌঁছে যায় খুব সহজেই।
প্রায় প্রতিটি দলেরই আলাদা করে একজন বিশেষজ্ঞ থাকেন যিনি প্রতিপক্ষের ক্রিকেটারদের নিয়ে নিবীঢ় গবেষণা করেন। খেলোয়াড়দের শক্তিমত্তা, দূর্বল জায়গাগুলো বের করে দলের ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজম্যান্টকে জানানোই তার কাজ।
এজন্য ভিন্ন কিছুর পরিকল্পনা থাকেন সব ক্রিকেটারেই। শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে ভিন্ন কিছুর বিকল্প নেই । বাংলাদেশর পেস সেনশেসন মুস্তাফিজুর রহমানও এমনই একজন। তার বিস্ময়কর ‘কাটার’ গত এক বছর ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত। তার শক্তিশালী কাটারে পৃথিবীর বাঘা-বাঘা ব্যাটসম্যানরা নিজেদের উইকেট হারিয়েছেন। এক বছরে মুস্তাফিজ যতটা নিজেকে চিনিয়েছেন ততটাই প্রতিপক্ষরা তাকে নিয়ে ‘গবেষণা’ করেছে। মুস্তাফিজ বধের উপায় বের করেছেন, বের করছেন!
এজন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে প্রতিটি ম্যাচে ভিন্ন কিছুর চেষ্টায় মুস্তাফিজ। এক্সপেরিমেন্ট করছেন প্রতিটি ম্যাচেই! যে কারণে ইনজুরিতে পরছেন ঘন-ঘন! কাউন্টি ক্রিকেটে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই পুরোনো কাঁধের ব্যাথা অনুভব করেছেন মুস্তাফিজ। এ নিয়ে বিসিবির পরিচালক ও জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ‘মুস্তাফিজ নতুন একটা এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছিল বোলিংয়ে। নতুন নতুন কিছু শিখতে চায়। ব্যাথাটা সেখান থেকেও আসতে পারে।’
এর আগেও ইনজুরিতে পরেছিলেন মুস্তাফিজ। এই বছরের জানুয়ারিতে কাঁধের ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে খেলা হয়নি তার। পাকিস্তান সুপার লিগেও খেলতে যাওয়া হয়নি। এই চোটের কারণেই এশিয়া কাপের ফাইনালসহ শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বড় অংশও মিস করেন মুস্তাফিজ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে টানা খেলার উপর থাকায় বারবার ইনজুরিতে পরছেন মুস্তাফিজ, এমনটাই ধারণা সুজনের। তিনি বলেন, ‘গত বছর লম্বা একটা মৌসুম কাটিয়েছে। মানসিক চাপ অনেক ছিল। মানসিক চাপ থেকে শারীরিক চাপটা আসে। ক্রিকেটাররা যখন দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলে তখন রেস্টলেস থাকে। এ সময়ে আঙ্গুলে লাগবে, পায়ে লাগবে, ছোট ছোট ব্যথা হবে। তারপরও আমি বলবো তেমন বেশি কিছু হয়নি।’
মুস্তাফিজ সম্পর্কে সুজন আরও বলেন, ‘মুস্তাফিজ হঠাৎ করেই এসেছে। একটু বেশি বোলিং করে ফেলেছে। এক্সপেকটেশন, মানসিক চাপ ছিল। স্লোয়ারে নতুনত্ব এনেছে। ও চায় ম্যাচের মধ্যে নতুন-নতুন কিছু করতে, যেটাতে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে পারে। ও জানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওর বোলিং প্রতিদিন কেউ মনিটর করছে, বোলিং সম্পর্কে অনেক কিছু জানছে। এই ধারণা থেকেই প্রতিটি ম্যাচে ছোটো-খাটো পরিবর্তন আনতে চায় ও।’
ConversionConversion EmoticonEmoticon